খুলনা- ৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আজিজুল বারী হেলাল ও পারভেজ মল্লিকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফেসবুক পোষ্ট ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায়  খুলনার রূপসা উপজেলার ৪নং টিএসবি ইউনিয়নের কাজদিয়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংর্ঘষের ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও রূপসা উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষ চলাকালে যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি পারভেজ মল্লিককে অবরুদ্ধ রাখে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের সমর্থকরা।

আহতরা হলেন, পারভেজ মল্লিক গ্রুপের শান্ত (৩৭), শাহাজাদা (৪১), মেহেদী হাসান বুলু (৩৮) এবং হেলাল গ্রুপের জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৫), ইমরান শেখ (৩০)। স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাদা শান্ত শেখ বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলা। যারা গণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন, তাদের ওপর এমন হামলা অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সকালে স্থানীয় নেতা কর্মীরা পারভেজ ভাইয়ের প্রোগ্রাম আয়জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সময় হেলালপন্থী কিছু ব্যক্তিরা তাদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমার ভাইসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে।”

জানতে চাইলে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, “সকালে এই অতর্কিত হামলার খবর জানতে পেরেই আমরা টহল মোতায়েন করে সকলকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে দেই। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি পারভেজ মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসুচির অংশ হিসেবে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমি দলীয় কর্মী-সমর্থক নিয়ে রূপসার কাজদিয়া বাজারে ৩১ দফা কর্মসুচির লিফলেট বিতরণ শুরু করি। এসময়ে আমাদের উপর হামলা করা হয়। এত আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দুই পক্ষকেই শান্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার কারণ জানতে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আনিসুর রহমান এবং সদস্য সুলতান মাহমুদকে রেখে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *