আজ ১১ মার্চ আইএসপিএবি (ISPAB) এর নিজস্ব অফিস ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মধ্যম আয়ের মর্যাদাশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার করেছিলেন। তারপর ধারাবাহিকভাবে ১৩ বছর ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট, মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের নির্দেশনায় চারটি স্তম্ভের উপর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা; দক্ষ মানবসম্পদ, সুলভ মূল্যে সকলের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া, সরকারের সেবাগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল সেবায় রুপান্তর করা, এবং আইসিটি শিল্পের বিকাশ ঘটানো।

গত ১৫ বছরে মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে ইন্টারনেট বিপ্লব সুসম্পন্ন হয়েছে সেখানে আইএসপিএবি’র ৩ হাজার উদ্যোক্তা, সাড়ে ৫ লক্ষ কর্মীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। আইএসপিএবি’র ২ হাজার ৬০০ সদস্যদের মাধ্যমে দেশের দেড় কোটি ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি দেওয়া সুসম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের যতগুলো সেবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন, সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আইএসপিএবি’র সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, ডিজিটাল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, এবং ১.৯ বিলিয়ন ডলার আইটি খাতে রপ্তানি আয় সক্ষমতা, ৯ হাজার ডিজিটাল সেন্টারে ১৮ হাজার উদ্যোক্তা, ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কারণে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, এবং আইটি শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে আইএসপিএবি ভূমিকা রেখেছে।

আমরা চাই উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশের রুপকল্প দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার যে ৫ টি মৌলিক অধিকার সংবিধানে সংরক্ষণ করে গেছেন সেগুলোকে নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরকে ইন্টারনেট প্লাস স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্যিক উন্নয়নসহ আমাদের প্রতিটি জায়গায় ইন্টারনেট লাগবে। ৫টি মৌলিক চাহিদার পর ৬ষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হলো অ্যাক্সেস টু ইন্টারনেট।

আগামীদিনে আইএসপিএবি হবে স্মার্ট বাংলাদেশের মেরুদন্ড। আমরা চাই ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করার সাথে সাথে নির্ভরযোগ্য সংযোগ দিতে। ইতোমধ্যে আমাদের ৮০ শতাংশ ইন্টারনেট পেনিট্রেশন আছে, আমরা এটাকে শতভাগে উন্নীত করতে চাই এবং বর্তমান দেড় কোটি সংযোগের আওতায় ৬ কোটি মানুষ আছে সেটাকে ১৭ কোটিতে উন্নীত করতে চাই। বর্তমানে বাংলদেশে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল লে-ডাউন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চান বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি যেনো ইন্টারনেট কনেক্টিভিটির আওতায় আসে। সেজন্য বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে হাইস্পিড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়া হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *