নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: বিএনপিকে দুর্নীতিপরায়ণ বলার আগে আয়নার নিজেদের চেহারা দেখতে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, `সংসদে বিএনপিকে নিয়ে তিনি কিছু আপত্তিকর কথা বলেছেন। বিএনপি নাকি দুর্নীতি পরায়ণ দল। বাংলাদেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এমন কথা বলার আগে আয়নায় নিজের মুখ দেখতে হবে। মানুষ কি বলে, কি আলোচনা করে সেটা দেখুন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক অধিকার মঞ্চ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সব রাজবন্দিরর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফখরুল বলেন, বক্তব্য নয়, সবাই এখন অ্যাকশন দেখতে চায়। বক্তব্য দিতেও ইচ্ছে করে না। আর মনে হয়, কারো শুনতেও ইচ্ছে করে না। কারণ সবাই এখন কাজ করতে চায়। সবাই অ্যাকশন চায়। দেশনেত্রীকে বের করে আনার জন্য কঠোর হতে বলে।
বর্তমান সরকার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে পরাজিত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, বিএনপিকে দুর্নীতিপরায়ণ বলার আগে মানুষ কি বলে আপনাদের সম্পর্কে তা শুনতে হবে তো। প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মুসা বলে গিয়েছেন যে, ‘আওয়ামী লীগ দেখলেই বলবা ‘চোর’। বদরুদ্দীন ওমর সাহেব কয়েকদিন আগে কলকাতার এয়ারপোর্টে একেবারে নাম ধরে বলেছেন চোর। এই যে মেগা প্রজেক্টগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। দেশের মানুষ খুব ভালো করে জানে, কারা দুর্নীতি করছে, কারা দুর্নীতি করছে না।
ফখরুল বলেন, যেনতেন নির্বাচন করতে’সরকার খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের কারাগারে নিচ্ছে ।‘দেশনেত্রীর নামে ৪টি মামলা রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল ১৫টি। ১৫টি মামলা তুলে নিয়ে এই ৪টি রেখে দিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া ৭ হাজার মামলা তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের মামলা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার। আসামির সংখ্যা এক মাস আগে পর্যন্ত ছিল ১৮ লক্ষের ওপরে। গোটা কারাগার ভরে গিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীতে। কেন করছেন এগুলো। কারণ জানেন বিএনপির নেতা-কর্মী যদি বাইরে থাকে, মাঠে থাকে, জনগণের সঙ্গে থাকে, তাহলে আপনাদের কোনো আশা নেই। সে কারণে আবারও যেনতেন ও জোর করে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি নেতাদের কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।