hartalনিউজবাংলা২৪ডটনেট:: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই ‘একতরফা নির্বাচন’ প্রতিহতে টানা কঠোর কর্মসূচি দেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। সে ক্ষেত্রে হরতালসহ সর্বাত্মক অবরোধের কর্মসূচির কথা ভাবছে প্রধান বিরোধী জোট। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে সেদিন থেকে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকির দিনই নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের কাছে আগামী সোমবারের মধ্যে তফসিল ঘোষণার কথা জানান।নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রোববার জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও সোমবার থেকেই এ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সোমবার তফসিল হলে মঙ্গলবার থেকেও কর্মসূচি দিতে পারে বিরোধী জোট।
সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার গেজেট প্রকাশের পর দিনই সোমবারের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। এরআগে ওইদিন বিকেলে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “পত্র-পত্রিকায় দেখছি নির্বাচন কমিশনার আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা ছাড়া তফসিল ঘোষণা হলে সেদিন থেকে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি না মেনে সরকার ‘একতরফা’ নির্বাচন করতে গেলে তা প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে ১৮ দলের। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া দলের প্রভাবশালী শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে টানা কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই হরতাল দেয়া হতে পারে। তবে রোববার আটক বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতার জামিনের শুনানি হওয়ার কথা থাকায় সেদিন হরতাল না দেয়ার সম্ভাবন রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, বিএনপি শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সে ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়ের আগ পর্যন্ত সরকার সমঝোতার উদ্যোগ নিলে তাতে সাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে এতদিন যারা গা বাঁচিয়ে চলছেন এমন নেতাদের শেষ সময়ে আন্দোলনে মাঠে থাকতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। সে জন্য কেন্দ্রীয় অনেক নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ারও নির্দেশের পাশাপাশি ঢাকায় আন্দোলন জমাতে ‘আট’ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে আসন্ন হরতালে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলে হরতালে পর অবরোধ দেয়ার চিন্তা করছে ১৮দল। সে ক্ষেত্রে একযোগে সড়ক-পথ, রেলপথ ও নৌপথ টানা অবরোধের কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, “সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যেগের অপেক্ষায় আমরা শেষ সময় পর্যন্ত থাকবো। কিন্তু তা না হলে তফসিল ঘোষণা করলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প থাকবে না। সে ক্ষেত্রে টানা হরতাল, এমনকি অবরোধও আসতে পারে।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “বিএনপি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়। কিন্তু সরকার সে দিকে না গেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।” আন্দোলন প্রসঙ্গে নতুন বার্তা ডটকমকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “আন্দোলন কত প্রকার তা বেগম খালেদা জিয়ার জানা আছে। সরকার সমঝোতার উদ্যোগ না নিলে সেদিকেই যাওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *