garment-workers-2নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগামি ১ নভেম্বর থেকে কারখানা পরিদর্শন শুরু করবে  অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ফর বাংলাদেশের পরিদর্শক দল। সেই সঙ্গে একজন প্রধান পরিদর্শক ও একজন স্থায়ী নির্বাহী পরিচালক নিয়োগও দেবে তারা। এরা উভয়ই বিদেশি নাগরিক।সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ তৈরী পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংগঠনটির সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অ্যাকর্ডের অন্তর্বতীকালীন নির্বাহী পরিচালক শন অ্যানসেটের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মূলত কারখানা ভবনের মান যাচাই , কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা জোরদারের ব্যাপারে অ্যাকর্ডের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের ভেন্ডার্ড কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ থেকে আরও ৩০০ বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ করা হয়েছে। যার কারণে পরিদর্শনের সময় ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১ বছর করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন তিনি। অ্যাকর্ডের সদস্য সংখ্যা ১ জন বেড়ে এখন ৮৭ জন হয়েছে বলেও জানান তিনি। আর কারখানাগুলোর তালিকা চলতি মাসের শেষের দিকে সরকার এবং বিজিএমইএর কাছে পেশ করা হবে।

শহীদুল্লাহ আজীম আরও জানান, অ্যাকর্ড ইতোমধ্যে একটা প্যারামিটার তৈরি করেছে। অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তার জন্য একটি সাধারণ মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে চলতি মাসেই তা আইএলও’র কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অর্থায়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই পদ্ধতিতে তারা অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটা কমন ফান্ড তৈরি করা হবে; যার অর্থ দাতা গোষ্ঠী থেকে আসবে। তবে মোট অর্থায়নের পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা হয়নি বলে জানা যায়। এ ছাড়া অ্যাডভাইসারি কমিটির মিটিং আগামি ২২ অক্টোবর হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সোমবারের শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি জান-মালের নিরাপত্তা না থাকে তবে আমরা কারখানা চালাতে পারবো না। সরকারকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আজ বিক্ষোভ এবং ভাংচুরের কারণে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে ঈদ আসছে। কাজ না হলে আমরা কর্মীদের সময় মতো বেতন-বোনাস দেব কিভাবে। আজ আমরা সরকারকে এসব কথা জানিয়ে এসেছি।’  তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই কারখানা বন্ধ না হোক। শ্রমিকেরা কাজে ফিরে আসুক। অযথা ভাংচুর ও বিক্ষোভ বন্ধ হোক। এসব বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই। সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিক। তা না হলে এভাবে চলতে পারে না।’ এদিকে ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আশুলিয়া, গাজিপুর, শফিপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও অঞ্চলসহ সারা ঢাকাতে শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুরের আগেই অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিকেরা। তবে আগামিকাল আবার নিয়মিতভাবে কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *