hartal_hamlaনিউজবাংলা২৪ডটনেট:: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সদস্য, যুবলীগ নেতা, পথচারী ও এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় ১৮ দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসে। এসময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয় পথচারীসহ অবরোধকারীরা।  অনেক স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। কুমিল্লায় অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া বগুড়া যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। সাতক্ষীরায় অবরোধকারীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে মাহবুবুর রহমান বাবু নামে যুবলীগ নেতাকে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-

কুমিল্লা: বিকেলে কুমিল্লা শহরের তালতলায় ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এসময় বিজিবির এক সদস্য গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাকসামে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৬জন। নিহত রিকশা চালক বাবুল মিয়া (৪৫) লাকসামের অশোকতলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথ দিঘীরপাড় এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বেশ কয়েকটি ককটেলে বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উভয় পক্ষের গুলি বিনিময় হয়। এতে রিকশা চালক বাবুল মিয়া নিহত হন। এতে আহত হন আরো অন্তত ৬জন। লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয।
সাতক্ষীরা: সকাল ১০টার দিকে কোলারোয়া উপজেলায় বেয়ারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বাবুকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে অবরোধকারীরা। নিহত বাবু কোলারোয়া উপজেলার সলীমপুর গ্রামের আলাদ গোলাম মোড়লের ছেলে। কোলারোয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্‌দারা খান বাংলামেইলকে জানান, সকাল ১০টার দিকে যুবলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান বাবু মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে মীর্জাপুর স্কুলমোড়ে পৌঁছলে অবরোধকারীদের রোষানলে পড়েন। অবরোধের সমর্থনে আসা মিছিল থেকে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা বাবুকে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
সিরাজগঞ্জ: সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর পৌর এলাকার সয়াধানগড়া এলাকায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ছাখমান আলী নামের এক পথচারী নিহত হয়। এ ঘটনায় ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত ছাখমান আলী (২৬) সদর উপজেলার মাছুয়া কান্দি এলাকার সামেদ আলীর ছেলে। তিনি সয়াধানগড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ রায়হান, শফি, নাদিম রাজু, মামুনসহ বাকি আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে পুলিশ সয়াধানগড়া মহল্লা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নুরকায়েম সবুজকে আটক করে। এ নিয়ে অবরোধকারীরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এসময় শুরু হয় ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে রাজমিস্ত্রী ছাখমান আলী গুলিবিদ্ধ হলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাশ্ববর্তী একটি পুকুরে লাফিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম ছাখমানের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, ‘ নেতাকর্মীরা অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিআর শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ‘এ ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পুকুরে পড়ে পথচারী নিহতের বিষয়টি শুনেছেন তিনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকা এখন শান্ত বলে জানান ওসি।
অপরদিকে, সকালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের নলকায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অবরোধকারীরা শহরের চামড়াপট্টি এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বগুড়া: বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের বনানী মোড়ে যুবদল-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিতে যুবদল নেতা ই্উসুফ হোসেন নিহত হয়েছে। নিহত ইউসুফ শহরের ২১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। এদিকে, যুবদল নেতা হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদে জেলা ১৮ দল বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।
বগুড়া জেলা বিএনরি দপ্তর সম্পাদক মাহফুজার রহমান রাজু জানান, বিকেলে যুবদলের নেতাকর্মীরা বনানী মোড়ে সমাবেশ করার সময় পুলিশ হামলা চালায়। এক পর্যায়ে গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় যুবদল নেতা ইউসুফ হোসেন। এঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দিনব্যাপী হরতাল আহ্বান করেছে ১৮ দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *