power_plantনিউজবাংলা২৪ডটনেট:: রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বনের ক্ষতি হবে না। দৈনিক ১০ হাজার মে. টন কয়লা ব্যবহার করে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ফলে দেশে শিল্প ও কলকারখানা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 রবিবার সকাল ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ কোল পাওয়ার কোম্পানী (প্রা:) লিমিটেড এই সভার আয়োজক। প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল ওয়াহাব খান। বক্তৃতা করেন পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিএস তারাকার, প্রকল্প পরামর্শক আজিজুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক, রবীন্দ্র নাথ সমাদ্দার। সুধীজনের পক্ষে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশ্ন করেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান, মহাসচিব শেখ মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
বক্তারা বলেন, জ্বালানীর দাম বেশি হওয়ার কারণে কাঙ্খিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে কয়লার ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্প ও কলকারখানা গড়ে উঠছে না। এই প্রকল্পের পাশাপাশি সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে। প্রায় ২ লাখ বৃক্ষরোপন দ্বারা সবুজ বেষ্টনী তৈরীকরণ, রায়ু, পানি ও শব্দ দূষন নিয়ন্ত্রণ ও ইকোসিস্টেম উন্নয়ন করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে বনায়নের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইয নি:সরনের প্রভাব কমানো হবে।
রামপাল উপজেলার সাপমারী, কাটাখালী ও কৈগরদাসকাঠি মৌজায় এক হাজার ৮৩৪ একর জমির ওপর এই প্রকল্প তৈরী হচ্ছে।
অপর এক সূত্র জানান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ সাত্তার তার এক গবেষনা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে এ প্রকল্প সুন্দরবনের ধ্বংস ডেকে আনবে। তিনি তার গবেষনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। এ প্রকল্প ২৩ ভাবে সুন্দরবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন সদরুল আমিন বলেন, এটি সুন্দরবন নিয়ে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।
কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট দিল্লিতে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকায় পিডিবি ও ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির সাথে ৩ টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পিডিবি ও এনটিপিসির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশীপ বিদ্যুৎ কোম্পানী নামে একটি কোম্পানী গঠন করা হয়। এই চুক্তিতে বলা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যে লাভ হবে ভারত তার কোন কর দেবে না, যা প্রচলিত নিয়মে বিদেশি কোম্পানীর ক্ষেত্রে দিতে হয়। ভারতকে এই সুবিধা ১০ বছরের জন্য দেয়া হয়েছে। রামেশা কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের ২২ জুন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়কে দেয়া এক চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার তথা সমগ্র জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *