একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত Reviewed by Momizat on . আজ রবিবার খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলীয় জোট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা কেন্দ্র আজ রবিবার খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলীয় জোট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা কেন্দ্র Rating: 0
You Are Here: Home » আঞ্চলিক » একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত

আজ রবিবার খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলীয় জোট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, নেতাকর্মীদের মারধর, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এছাড়া ভোট চলাকালে খুলনার কোন কেন্দ্রে কোন সহিংসতা ঘটেনি। সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। তবে ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটারদের সংখ্যায় ছিল বেশি।
ভোট বর্জনকারীরা ধানের শীষের প্রার্থীরা হলেন- খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দাকোপ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান, একই আসনের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সুনীল শুভ রায়, খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনের বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়তে ইসলামী নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এই আসনের ২০ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী তার পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোট গ্রহণের ১ ঘণ্টার মধ্যে ৫ আসনের সকল ভোট কেন্দ্রের তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। ভোট গ্রহণের পর থেকে শত শত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। বেশ কিছু নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যে কারণে এ প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
খুলনা-৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল দাবি করেন, ‘পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তাকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তিনি এ প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করছেন।’ তবে নির্বাচন চলাকালে খুলনার ৬টি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানসহ নানা ধরনের অভিযোগ করলেও বড় ধরনের সহিংসার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, জাল ভোট ও প্রহসনের এ নির্বাচন আমি বর্জন করেছি। এ আসনের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সুনীল শুভরায় অভিযোগ করে বলেন, ‘এরকম কলঙ্কিত ভোট আমি আগে কখনো দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কাউকে গাছের সাথে বেধেও রাখা হয়েছে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদেরকে ব্যালট পেপার টেবিলের উপর রেখে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোন সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। তাই আমি সকাল সাড়ে দশটায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।’
এদিকে, সরেজমিন খুলনা-২ আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের দেখা যায়নি। নৌকা প্রাতীকের এজেন্টরা বলেন, ‘ওনারা না আসলে আমরা কি করবো’। কেন্দ্র ঘুরে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারের চেয়ে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। নগরীর রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কেসিসি কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ, রূপসা ইউসেপ প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুপাড়া ইয়াতিমখানা মোড়স্থ নূরাণী মাদ্রাসা কেন্দ্র, দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র, গোবরচাকা পল্লীমঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ভোট কেন্দ্রের ২-৩শ’ গজ দূরে এবং পাড়া-মহল্লায় প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখেই ভোটাররা আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নারী-পুরুষ ভোটার অভিযোগ করেছেন।
সকাল পৌনে ১০টায় পল্লীমঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একজন বিএনপির কর্মী আসলে সরকারি দলের সমর্থকরা তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওই কেন্দ্রের সামনে সরকারি দলের কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা গেলেও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিকে, নগরীর ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের ৬টি বুথের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। পুলিশও একইভাবে এজেন্টদের গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে। ভয়ে অনেক এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে পারেনি।’
সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর আহছানউল্লাহ ভোট কেন্দ্রে মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘খুলনা-২ আসনে শান্তিপূর্ণ ও স্বতস্ফুর্তভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনেই আগে-ভাগেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা তাদের চারিত্রিক দোষ।’
এ সময় সেখ জুয়েলের সঙ্গে খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ও কেসিসির ২০ নম্বর কাউন্সিলর শেখ গাউসুল আযম প্রমুখ।
খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টায় বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমি প্রায় ২০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আমার চোখে পড়েনি।
তিনি বলেন, খুলনা-২ আসনে ইভিএমে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। জেলার বাকি ৫টি আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচনে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে ১০টি রাজনৈতিক দলের মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ২ জন। এ নির্বাচনে ছয়টি আসনের ৭৮৬ ভোট কেন্দ্রের ৩ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯ জন। ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ আসনের ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭২০টি ভোট কক্ষে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।
খুলনা-২ আসনে ইভিএমে খুশি ভোটাররা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় এ আসনের ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭২০টি ভোটকক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নগরীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নতুন এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে ভোটাররা খুব আগ্রহী। তবে কোথাও কোথাও ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোথাও কোথাও আঙ্গুলের ছাপ সঠিক না হওয়ার একাধিকবার ছাপ দিতেও দেখা গেছে। এতে একটি ভোট দিতে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট সময় লেগে গেছে। ফলে কিছু কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সময় ভোটারদের ভিড় লেগে ছিল ।
নগরীর পল্লীমঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার সত্তরোর্ধ সাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমি এভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি। অল্প সময়ের মধ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, আঙ্গুলে টিপ দেয়ার চাইতি ইভিএমে ভোট দেয়া সুবিধার’।
একই কেন্দ্রের ভোটার হাসেম উদ্দিন বলেন, ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটা ভালো। সারাদেশে এ পদ্ধতি চালু হলে দ্রুত সময় ভোটগ্রহণ ও ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে।
এই কেন্দ্রের পিজাইডিং কর্মকর্তা কিংকর বিশ্বাস বলেন, ভোট ভাল হচ্ছে। এই পদ্ধিতে মানুষ খুব খুশি।

About The Author

Number of Entries : 2750

Leave a Comment

Scroll to top