খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের সক্রিয় Reviewed by Momizat on . নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের তত্পর হয়ে উঠেছে। এ সকল অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একটি হ নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের তত্পর হয়ে উঠেছে। এ সকল অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একটি হ Rating: 0
You Are Here: Home » আঞ্চলিক » খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের সক্রিয়

খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের সক্রিয়

নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীরা ফের তত্পর হয়ে উঠেছে। এ সকল অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একটি হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের তত্পরতা বৃদ্ধি পেলেও নিয়মিত তদারকি না থাকার কারণে কিশোর অপরাধীরা আবারো খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর ব্যস্ততম সাতরাস্তা মোড় এলাকায় কিশোর অপরাধীদের ছুরিকাঘাতে মেহেদী হাসান (২২) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীতে কিশোর অপরাধীদের হাতে স্কুল ও কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্র হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এ সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ অপরাধীরা আইনের আওতায় আসলেও পাড়া-মহল্লায় নতুন নতুন কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। এসব কিশোর অপরাধীদের দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে দেখা যায় এদের অবস্থান। কিন্তু এদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ কোনো তত্পরতা দেখা যায় না। তবে, হত্যাকাণ্ডসহ বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের তত্পরতা জোরদার হয়। কিছুদিন পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সে তত্পরতাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর এ সুযোগে কিশোর অপরাধীরা ফের জড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের অপরাধে।

 

সূত্র মতে, গত ১১ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর ব্যস্ততম সাতরাস্তা মোড় এলাকায় কয়েকজন কিশোর ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে কিশোর অপরাধীরা নগরীর দোলখোলা রোডে নগরীর সাজেস টেকনিক্যাল কলেজের কম্পিউটার বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসানকে (২২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত মেহেদী হাসান নগরীর বাগমারা মেইন রোডের রাজমিস্ত্রি মামুন হাওলাদারের ছেলে।

 

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাতে খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনকে (১৪) কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান স্থলের গ্রিন রুমের পাশে বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অত্যাধুনিক চাকুটি। এক মাসের মধ্যে ওই মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই ছিল কিশোর। তারা বিভিন্ন স্কুলের সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তদন্ত প্রতিবেদনে এ হত্যাকাণ্ডটি ‘প্রেম সংক্রান্ত’ বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

পাবলিক কলেজ ছাত্র রাজিন হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ দিন আগে অর্থাত্ ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরীর চাঁনমারী বাজার এলাকার স্কুলছাত্র খলিলুর রহমান সিয়াম (১৬) খুন হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিশোর ও যুবক অপরাধীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সিয়ামকে হত্যা করে। রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল খলিলুর রহমান সিয়াম। সে ওই এলাকার মেছের সড়কের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক মো. আয়নাল খন্দকারের ছেলে। এ মামলাটিরও অভিযুক্তরা আইনের আওতায় এসেছে। তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. এহসান শাহ বলেন, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এদের অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে পুলিশের কয়েক দফা সচেতনতামূলক বৈঠক হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি, শিগগিরই ভালো ফলাফল আসবে বলেও জানান তিনি।

 

কেএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কিশোর বয়সী অপরাধীদের প্রতি আমাদের সব সময় নজরদারি রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে নিয়মিত পুলিশের টহল ও সাদা পোশাকে পুলিশের অবস্থান থাকে। এরপরও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মাঝেমধ্যে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরো বেশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

About The Author

Number of Entries : 2644

Leave a Comment

Scroll to top