সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য Reviewed by Momizat on . নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য ‘বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করা নিউজবাংলা২৪ডটনেট:: সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য ‘বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করা Rating: 0
You Are Here: Home » জাতীয় » সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য

সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য

bdr_kilনিউজবাংলা২৪ডটনেট:: সেনা ও বিডিআরে বিরোধ সৃষ্টি ছিল বিদ্রোহের লক্ষ্য ‘বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করানো। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত করা।

এছাড়া সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে যে কোন মূল্যে তাদের দাবি আদায় করা। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে অকার্যকর করা। প্রয়োজনে সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তাদের বিডিআরে প্রেষণে কাজ করতে নিরুত্সাহিত করা। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। বর্হি:বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত করা।’

 

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর বৃহত্তর বেঞ্চের দেয়া রায় ঘোষণাকালে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
এ পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পূর্বে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. শওকত হোসেন সূচনা বক্তব্যে বলেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে একটা ভয়াবহ ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। ওইদিন ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও পাক হানাদার বাহিনীর হাতে এত সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হয়নি। এটা ছিল বড় হত্যাযজ্ঞ (মাস কিলিং)। ওইদিন দেশের সূর্য সন্তানদের হত্যা করা হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আদালত গভীর শোক ও সমবেদনা জানায়।
সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে এজলাসে আসেন বেঞ্চের তিন বিচারক। এ সময় আদালত কক্ষ ছিল জনাকীর্ণ। সূচনা বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে রায় পড়া শুরু হয়। আদালত জানায়, তিন বিচারপতিই আসামিদের দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌছেছেন। তবে তারা আলাদা আলাদা পর্যবেক্ষণ দেবেন। যা মূল রায়ের ভিত্তি হিসাবে গণ্য হবে। এদিকে আজ সোমবার আদেশের অংশসহ মূল রায় (সাজার অংশ) ঘোষণা হবে। মূল রায় ঘোষণার পূর্বে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন। এরপরই জ্যেষ্ঠ বিচারক মূল রায় ঘোষণা করবেন।
বেঞ্চের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পেশাদারিত্বের ঐতিহ্যকে ভুলণ্ঠিত করে বিডিআর জওয়ানরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে কলংকজনক অধ্যায় সৃষ্টি করে তারা নিজেদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। এই কলংকের দাগ তাদের বহুকাল বহন করতে হবে। তিনি বলেন, সদ্য নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার প্রধান হিসাবে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম ধৈর্য্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শক্ত হাতে বিডিআর বিদ্রোহ দমনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিদ্রোহের ঘটনা পূর্বাপর আলোচনা ও পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ঠ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নের লক্ষ্যে এটি ছিলো একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র নায়কোচিত দৃঢ় পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
এই বিদ্রোহে মাত্র ৪৮ দিনের একটি নবনির্বাচিত সরকারকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুুখীন করে। যা ছিলো গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য প্রচন্ড হুমকিস্বরূপ। ৩০ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় ৮ হাজার বিডিআর সদস্য আত্নসমর্পণ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনে।
পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সিদ্দিকী বলেন, দক্ষিণ ফিলিপাইনের এক বিদ্রোহে ৬জন এবং পৃথিবীর ইতিহাসে ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দিনের বিদ্রোহে ১০০ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিল। আর পিলখানার ঘটনা তাকেও হার মানিয়েছে। কারণ ৩০ ঘন্টার বিদ্রোহে নিহত হয়েছে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। যা ছিলো নজিরবিহীন।
সূত্র: ইত্তেফাক

About The Author

Number of Entries : 2538

Leave a Comment

Scroll to top